প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসার লিজকৃত রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি শামসউদ্দিন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে। জমি উদ্ধার করে বৈধ দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বোয়ালমারী পৌর ভবনের পাশে অবস্থিত পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ ও পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান। তিনি বলেন, পাঞ্জেরী মডেল একাডেমির তৎকালীন অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মাহমুদের নামে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ১৪ এপ্রিল ০৪৯৫০ নম্বর লাইসেন্সের আওতায় রেলওয়ের ১ একর জমি লিজ নেওয়া হয় এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্টেশন মাস্টার গোলাম রসূলের মাধ্যমে ০৭৭৪২/২ নম্বর লাইসেন্সের আওতায় ২৭০/৬ থেকে ২৭০/৯ নম্বর খাম্বার মধ্যবর্তী ০.৬৬ শতাংশ জমিও লিজ নেওয়া হয়। ওই জমির খাজনা ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে শামসউদ্দিন মিয়া ঝুনু প্রভাব খাটিয়ে লিজকৃত জমি জোরপূর্বক দখলে রাখেন। পরে তিনি ওই জমি প্লট আকারে বিভক্ত করে অন্যদের কাছে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেন বক্তারা।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঞ্জেরী একাডেমি বর্তমানে মাদরাসায় রূপান্তরিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন। তাই রেলওয়ের লিজ নেওয়া জমি পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও লিজগ্রহীতা আবুল কাশেম মাহমুদ। তিনি বলেন, রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেওয়া হয় না। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তার ব্যক্তিগত নামে জমিটি লিজ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই জমি জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং বৈধ দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসার সভাপতি মো. জাকির হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. মানসুর আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. আতিয়ার রহমান মিয়া, মো. গোলাম কুদ্দুসসহ অন্যান্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি শামসউদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, আমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই জমিটি লিজ নিয়েছি। অন্য কারও লিজ নেওয়া জমি আমি দখল করিনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।