প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইটভাটা ও স-মিল মালিক ব্যবসায়ী আহসানুল কবীর হেলাল মিয়া অভিযোগ করেছেন, তার প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে তাকে মারধর ও হেনস্তা করা হয়েছে এবং সঙ্গে থাকা একটি ফাইল থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার বিকেলে পৌরসভার কামারগ্রাম তালতলা ব্রিজসংলগ্ন নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আহসানুল কবীর হেলাল মিয়া বলেন, গত ৪ জুলাই প্রাইভেটকারে করে ফরিদপুর যাওয়ার পথে বোয়ালমারী পৌর বাজারের নাটমন্দির রোড এলাকায় নিউ মার্কেটের সামনে তার গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এ সময় রায়পুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাসুদ ও মামুনের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক তাকে আটকে মারধর করে। তার কাছে থাকা একটি ফাইলে নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করলেও নগদ টাকা উদ্ধার হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা দাবি করছেন আমার নিকট তারা টাকা পান। তবে আমি কারও কাছে কোনো টাকার দেনা নেই। তবুও আমাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মাসুদ শেখ দাবি করেন, আহসানুল কবীর হেলাল মিয়ার কাছে তাদের ইট কেনা ছিল ৩০ লাখ টাকার। তার বাবা অসুস্থ হওয়ার পরে টাকা চাইলে তিনি টাকা ইট কিছুই দেননা। পরে নগদ ৫ লাখ টাকা ও ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকার ইট আনা হয়। সর্বশেষ ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা পাবো তার নিকট। এ নিয়ে থানায় অনেকবার বসা হয়েছে। টাকা দিতে গিয়েও দেননা। সর্বশেষ ৪ জুলাই বিকেলে টাকা পরিশোধের সময় জানতে চাইতেই তার গাড়ি থামানো হয়েছিল। তবে তাকে মারধর বা গালাগাল করা হয়নি। পাওনা টাকা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে নাটক সাজিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।