প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়ক। একসময় এলাকার মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলেও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন সড়কটি যেন পরিণত হয়েছে ‘মৃত্যুর কূপে’। সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে তৈরি হচ্ছে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি।
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষক থেকে শুরু করে রোগী বহনকারী যানবাহন–সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাস্তার এমন বেহাল দশা যে, যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ভোগ। খানাখন্দ এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে কখনো এক পাশ দিয়ে, কখনো রাস্তার কিনারা ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুর বা খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, ‘রাস্তা ভেঙে-চুরে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। এর আগে অনেকবার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে।’
জামাল মোল্যা বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এটা পাকা রাস্তা নাকি কাঁচা রাস্তা। কোথাও গর্ত, কোথাও উঁচু-নিচু। বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। খালি পায়ে হাঁটলেও পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।’
নছিমন চালক কায়েম বিশ্বাস বলেন, ‘আমি নিয়মিত এ রাস্তা দিয়ে মালামাল বহন করি। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা, তাতে প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, আবার যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।’
এক ভ্যানচালক বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি পিকআপ এসে আমার ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। ভাগ্য ভালো, ওই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
এক পথচারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। কোনো রোগী নিয়ে গাড়ি এলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাচু শেখ বলেন, ‘এ সড়কে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। খালেক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এসব জায়গায় দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন তাদের জন্য স্বস্তির বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় কোনটি গভীর আর কোনটি সামান্য–তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া আছে। একটি এস্টিমেট করে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, ‘সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। রাস্তাটি আইডিভুক্ত রয়েছে। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।’
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন-প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ শুরুর অপেক্ষায় আর কতদিন এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে? তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের ভয়াবহ খানাখন্দগুলো সংস্কার করে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।