• ঢাকা
  • বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ০১:২৬
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার আরমান’ বোয়ালমারীতে গ্রেপ্তার

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার আরমান’ বোয়ালমারীতে গ্রেপ্তার প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার: একসময় পিকআপ চালক, এরপর সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য- অভিযোগের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নিজেই গড়ে তোলেন ‘আরমান বাহিনী’। খুলনার দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা ও দিঘলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগে আলোচিত সেই ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান মো. আরমান হোসেন দিপু আরমান আরমিন ওরফে ‘শ্যুটার আরমান’কে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে র‍্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।

‘আরমান বাহিনী’র নেতৃত্বে আতঙ্কের অভিযোগ

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে খুলনার দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ‘আরমান বাহিনী’ আলোচনায় ছিল। গ্রেপ্তার আরমান এই বাহিনীর প্রধান বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

তার নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি দল এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্রের মহড়া ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

মসজিদে দুই মুসল্লিকে গুলি: হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

র‍্যাব জানিয়েছে, গত ১৭ জুন খুলনার দৌলতপুরে একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আরমান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

একাধিক হত্যা মামলায় নাম

র‍্যাবের দাবি, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মামুন মোল্যা হত্যা, মারজান মুন্না হত্যা, ঘাউরা রাজিব হত্যা, যুবদল নেতা রাশু হত্যা ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য।

র‍্যাব জানিয়েছে, এসব মামলার কয়েকটিতে তদন্তে আরমানকে সন্দিগ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কালা রানা হত্যা মামলায় ভিকটিমের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ও তদন্তেও তার নাম এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘ব্যবসায়ী’ পরিচয়ে ছয় মাসের বেশি বোয়ালমারীতে

র‍্যাবের অভিযানের আগে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আরমান। পরে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এসে অনেকটা নীরবেই বসবাস শুরু করেন তিনি।

প্রায় ছয় মাস ধরে বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামের মিলন শেখের তিনতলা ফ্ল্যাটে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন আরমান।

বাড়ির মালিকের কাছে নিজেকে মাছের ঘের ও জমির ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। তার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল এখনো ওই বাড়ির সামনে রয়েছে।

বাড়ির মালিক মিলন শেখ বলেন, ‘আরমান তার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার ভোটার আইডি কার্ড দেখে নিয়ম মেনেই তাকে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। এ সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল বাড়ির সামনে রেখে গেছে।’

গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দিনগত গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুকিনগর গ্রামের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে ওই ব্যক্তি এখানে বসবাস করছিলেন। পরে জানতে পারি, তিনি বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের এলাকায় থাকলেও এখানে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেননি—এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।’

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আরমানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনা ও তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয়

সারাদেশ

বাংলাদেশ

আরও পড়ুন